সংসদ নির্বাচন নিয়ে যারা শঙ্কা ছড়াচ্ছেন তারা নজরদারিতে
প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
গণভোটের বিষয়ে মানুষের মধ্যে প্রচার চালাতে এবং উদ্বুদ্ধ করতে সারা দেশের মসজিদের ইমামসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে যারা এখনো সন্দেহ ও সংশয় ছড়াচ্ছেন, তাদের সরকার নজরদারিতে রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই ইস্যুতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব বলেন, গণভোটের বিষয়ে যাতে আমাদের ইমামদের উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাঁরা যাতে শুক্রবার যে খুতবা পড়েন, সেই সময় বা অন্যান্য সময় যাতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন গণভোটের বিষয়ে, গণভোটের গুরুত্বের বিষয়ে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে। প্রেস সচিব বলেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ৫০০ জন আলেমের সঙ্গে এক ধরনের ঘরোয়া বৈঠক করেছেন। তাঁদেরকে এই গণভোটের বিষয়ে জানিয়েছেন এবং সেখানে তাঁরা খুব ভালো সাড়া পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে। এ ছাড়া ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র যেগুলো আছে এবং বাংলাদেশে যেসব মক্তব আছে, যেখানে খুবই প্রি-প্রাইমারি লেভেলে পড়ানো হয়। সেই জায়গার ৭৭ হাজার মক্তব আছে, যারা মক্তবে পড়ান বিশেষ করে ইমামরাই পড়ান, মূলত তাদেরও কীভাবে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও আজকে জোর দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ আছে ৪ লাখ, ঢাকায় আছে ৪ হাজার মসজিদ। সব মসজিদের ইমামকে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করা যায় এবং এ ছাড়া অন্যান্য ধর্মের যারা জনগোষ্ঠী আছেন, মন্দির-গির্জা উপাসনালয়গুলো যেগুলো আছে, তাদের মাধ্যমে কীভাবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা যায় গণভোটের বিষয়ে, বিশেষ করে এই জুলাই সনদের বিষয়ে, সেই বিষয়েও মিটিংয়ে জোর দেওয়া হয়।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যাঁদের আলোচনা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারি, শায়খ আহমদুল্লাহ ছিলেন। মিটিংয়ে শুধু ধর্ম উপদেষ্টা ছিলেন, সচিব ছিলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র কর্মকর্তারা ছিলেন। আর ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে হাজার হাজার লিফলেট ছাপানো হচ্ছে। লিফলেটগুলো জনগণকে এই গণভোটের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে সারা বাংলাদেশে বিতরণ করা হবে।
প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনের আর ৩৫ দিনের মতো বাকি রয়েছে। যারা শঙ্কা ছড়াচ্ছেন আপনারা তাদের অতীত সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তিনটি ইভেন্ট হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার জানাজা কোনো ঝামেলা ছাড়া সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে সরকারের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তাই নির্বাচনের বিষয়ে ভিত্তিহীন সন্দেহ ছড়ানো অর্থহীন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি প্রায় সম্পূর্ণ। যারা দায়িত্ব পালন করবেন তাদের ৭০ শতাংশের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। শফিকুল আলম বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিবন্ধনে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। চূড়ান্তভাবে ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে দেশে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন ও বিদেশে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন রয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ।
