20 January 2026, 08:00:18 AM, অনলাইন সংস্করণ

সচিবালয়ে ভাতা চালুর আন্দোলনে গ্রেফতার ১৪ জন রিমান্ডে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১২ অপরাহ্ণ

সচিবালয়ে ভাতা চালুর আন্দোলনে গ্রেফতার ১৪ জন রিমান্ডে
16px

‘সচিবালয় ভাতা’ চালুর দাবিতে আন্দোলন থেকে গ্রেফতারের পর শাহবাগ থানার সন্ত্রাস বিরোধ আইনের মামলায় ১৪ আসামিকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবির, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন গোলাম রাব্বানী ও নজরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান সুমন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রোমান গাজী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আবু বেলাল, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক কামাল হোসেন ও আলিমুজ্জামান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তায়েফুল ইসলাম, ইসলামুল হক ও মহসিন আলী, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক বিপুল রানা বিপ্লব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র রায়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অফিস সহায়ক নাসিরুল হক নাসি। এদিন তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক কে এম রেজাউল করিম প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, সচিবালয় এলাকা যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সেহেতু ওই এলাকায় ডিএমপি কমিশনার সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। গ্রেফতার ও পলাতক আসামিরা ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনা অমান্য করে ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে। গোপন প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আসামিরা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে পলাতক ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগদের সঙ্গে পরস্পর যোগসাজশ করে অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ সচিবালয়কে অকার্যকর করার লক্ষ্যে তারা আইন বহির্ভূতভাবে বাংলাদেশ সচিবালয়ের অভ্যন্তরে সমবেত হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়। আসামিরা এ ঘটনা ঘটানো এবং এ ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ণ হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সরাসরি সম্পৃক্ততার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাদের সঠিক নাম-ঠিকানা সংগ্রহের লক্ষ্যে, ঘটনার নেপথ্যে জড়িত পলাতক আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামিদের ঢাকা ও ঢাকার বাইরে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করা ও পুলিশ হেফাজতে রেখে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য সাত দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারজানা ইয়াসমিন রাখীসহ কয়েকজন আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এর আগে বুধবার সচিবালয়ে কর্মরত সবার জন্য ২০ শতাংশ ‘সচিবালয় ভাতার’ দাবিতে আন্দোলনে নামেন সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বেলা আড়াইটার পর তারা সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে কার্যত ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন উপদেষ্টা। পরে রাতে সরকারি আদেশ (জিও) জারির ‘আশ্বাস পেয়ে’ রাত সাড়ে ৮টার দিকে কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন আন্দোলনকারীরা। তারা জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার মধ্যে জিও জারির ‘আশ্বাস পেয়ে’ অবস্থান থেকে সরে গেছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সচিবালয়ে তারা আবারও জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সমাবেশ থেকে আগামী সপ্তাহ থেকে ‘পূর্ণদিবস কর্মবিরতির’ কথাও বলা হয়। পরে সচিবালয় থেকে প্রাথমিকভাবে ৫ জনকে আটক করে হেফাজতে নেয় পুলিশ, পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ জনে। পরে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধ আইনে মামলা করেন বাংলাদেশ সচিবালয়ে ফোর্স হিসেবে কর্মরত এএসআই হাফিজুর রহমান।

  • সর্বশেষ - অন্যান্য