গুণগত আমন চাল ক্রয়ে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারী খাদ্য সচিবের
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:২১ অপরাহ্ণ
গুণগত আমন চাল ক্রয়ে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার। এ জন্য তিনি জেলা থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত মনিটরিং বাড়াতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। তিনি চালের পাশাপাশি কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, গুণগত মান ঠিক রেখে আমন চাল ও ধান সংগ্রহ করতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি শনিবার (০৬-১২-২০২৫)
ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করার সময় এ সব কথা বলেন।
সূত্র জানায়, খাদ্য সচিব ক্রয় নীতিমালা অনুযায়ী গুণগত মানের চাল ও ধান সংগ্রহ, মজুদ ও বিতরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর নির্দেশ দেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে দায়ীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি চাল ও ধানের আদ্রতা এবং গুণগত মান যাচাই করে সংগ্রহ কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলায় চাল সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। খাদ্য সচিব আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে ধান এবং ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চাল ক্রয় সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন।
মতবিনিময় সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ্ তাহমিনা আক্তার, খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মো. মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আশরাফুল আলম, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান, ময়মনসিংহের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহমুদুল হাছান, শেরপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. নাজমুল হক ভূঁইয়া, নেত্রকোণার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোয়েতাছেমুর রহমান, জামালপুরের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান খান, বিভিন্ন উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক এবং বিভিন্ন গুদামের ওসিএলএসডিরা উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য সচিব এর আগে ময়মনসিংহের স্টিল সাইলো ও সিএসডি পরিদর্শন করেন।
এদিকে শনিবার (০৬-১২-২০২৫) পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগের ৪ জেলায় ৯৬ হাজার ২২৬ টন ৮৬০ কেজি আমন চাল ও ৫ হাজার ৪৪০ টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৩ হাজার ৯৬৭ টন ৩০৫ কেজি চাল ও ৯০৭ টন ২০০ কেজি ধান কেনা হয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহে ৩৯ হাজার ৫৫৯ টন ৮৬০ কেজি চাল ও ২ হাজার ২৫৬ টন ধানের বিপরীতে ১০ হাজার ৯৯৩ টন ৬৬৫ কেজি চাল ও ৫৭৬ টন ধান কেনা হয়েছে। নেত্রকোণায় ২৭ হাজার ৫৬ টন চাল ও ১ হাজার ২২৭ টন ধানের বিপরীতে ৬ হাজার ১১৯ টন ৩৮০ কেজি চাল ও ১৪৫ টন ২০০ কেজি ধান কেনা হয়। জামালপুরে ১৭ হাজার ৩৯১ টন চাল ও ১ হাজার ১০৫ টন ধানের বিপরীতে ৩ হাজার ৬২৯ টন ৭০০ কেজি চাল ও ১২৩ টন ধান কেনা হয়েছে। শেরপুরে ১২ হাজার ২২০ টন চাল ও ৮৫২ টন ধানের বিপরীতে ৩ হাজার ২২৪ টন ৫৬০ কেজি চাল ও ৬৩ টন ধান কেনা হয়।
